বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন
ফুটবল মাঠের নায়িকা এবার প্রশাসনিক মঞ্চে আলো ছড়াচ্ছেন!
কেফায়েত উল্লাহ, খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি
বাংলাদেশের নারী ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল তারকা আনাই মগিনী এবার পা রাখলেন প্রশাসনিক অঙ্গনে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে কর্মকর্তা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন তিনি। শনিবার (১৭ মে) দুপুরে জেলা পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা নিজ কার্যালয়ে আনাইয়ের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন – যা ছিল এক আবেগঘন ও সম্মানজনক মুহূর্ত।
জানা গেছে, খাগড়াছড়ি জেলার সাতভাইয়া পাড়ার কৃতী সন্তান আনাই মগিনী দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় নারী ফুটবল দলে অসামান্য ভূমিকা রেখে এসেছেন। তিনি দেশের হয়ে খেলেছেন বহু আন্তর্জাতিক ম্যাচে, এনেছেন বিজয় আর সম্মান। বিশেষ করে ২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফাইনালে তার বিজয়ী গোল এখনো ক্রীড়ামোদীদের মনে জ্বলজ্বলে এক স্মৃতি।
তার এই ক্রীড়াঙ্গনের অবদানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে, জেলা পরিষদ তাকে প্রশাসনিক দায়িত্বে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় — যা নিঃসন্দেহে এক নজিরবিহীন স্বীকৃতি। সম্প্রতি আনাই ব্যবসায়িক কাজে মনোনিবেশ করলেও, হঠাৎ করেই তাকে দেখা গেল এক ভিন্ন ভূমিকায়, সরকারি দপ্তরে।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা বলেন, “আনাই মগিনী আমাদের জেলার গর্ব। তার ফুটবল দক্ষতা দেশের ক্রীড়ামোদীদের মুগ্ধ করেছে। তার জন্য বাংলাদেশের ফুটবল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করতে পেরেছে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ তার এ অবদান মূল্যায়নের চেষ্টা করেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
নিয়োগপত্র হাতে নিয়ে একান্ত অনুভূতিতে আনাই মগিনী বলেন, “এটি আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমি ফুটবলের মাধ্যমে দেশের সেবা করেছি। এখন প্রশাসনিক দায়িত্বের মাধ্যমে আরও কিছু করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা আমাকে যেভাবে সম্মানিত করেছেন, তাতে আমার দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। আমি সেটাকে কাজে লাগাতে চাই এবং প্রমাণ করতে চাই যে, ক্রীড়াজগতের বাইরেও আমি জাতির সেবায় পারদর্শী।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তার ছোট বোন আনুচিং মগিনী, বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ম্রাচাথোয়াই মারমা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।